ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিয়ানমারে ‘গণতন্ত্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতা’ নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানের জন্য দেশটির এক ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
চলতি বছরের ১৬ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আয়োজনে ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘সেকেন্ড মিনিস্টারিয়াল টু এ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের ২৭ টি দেশের বিভিন্ন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ, ইরাক, তিব্বত, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং কিউবাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও ছিল।
অনুষ্ঠানে দেশটির কোচিন জাতির ধর্মীয় নেতা ড. হকালাম স্যামসন ও যাজক লাংজা গ্যাম জিঙ্ক অংশগ্রহণ করেন। ড. স্যামসন মিয়ানমারের ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ নিশ্চিতে হস্তক্ষেপ করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, মিয়ানমারে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের সদস্যরা নির্যাতিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্যও তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ‘মিয়ানমারে গণতন্ত্র উন্নয়ন এবং ফেডারিলিজিম’ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার জন্য স্যামসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দেশটির সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকতা।
মিয়ানমার গণমাধ্যম দ্য ইরাবতীকে স্যামসন বলেছেন,‘আদালত থেকে মামলা সম্পর্কিত কোন নোটিশ পাননি। আগামী মাসে আদালত এ মামলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’
অন্যদিকে, ২০১৬ সালে মিয়ানমারের উত্তর শান প্রদেশের মংকো অঞ্চলে সংঘর্ষে পর্যবেক্ষণে সাংবাদিকদের সাহায্যের জন্য যাজক লাংজা গ্যাম জিঙ্ককে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরার সময় দুই যাজকের নিরাপত্তা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বিগ্ন ছিল। কারণ আশক্সক্ষা ছিল, বিমানবন্দরে দুই যাজককে আটক করবে সেনাবাহিনী।
বিশ^ যাজক সম্প্রদায়ের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকও দুই যাজকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জাতিসংঘের কাছে এক চিঠিতে আহ্বান জানিয়েছিল।
দেশটির বিমানবন্দরে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েল তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
Leave a Reply